ডলারের উত্থানে স্বর্ণের দাম কমেছে বিশ্ববাজারে

বিশ্ববাজারে গতকাল স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ থেকে কিছুটা কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এ দরপতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্ববাজারে গতকাল স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ থেকে কিছুটা কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এ দরপতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগামী মাসে সুদহার কমানোর প্রত্যাশা বাজারে পণ্যটির দরপতনকে অনেকটাই সীমিত করে রেখেছে। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৩ হাজার ৩৬৭ ডলার ৮৬ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কম। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে মূল্যবান ধাতুটির দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৪১২ ডলার ৫০ সেন্টে।

গতকাল ডলারের বিনিময় হার দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এতে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোর জন্য স্বর্ণ ক্রয় তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে চাহিদা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান সিটি ইনডেক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩৫০ ডলারের কাছাকাছি দামে বেচাকেনা হতে পারে।

তবে এর আগে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংকিং আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) শেষে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। এর পেছনে ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের প্রভাব কমে আসা এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী চাহিদা।

ব্যাংকটি আরো জানায়, এর আগে ২০২৬ সালের মার্চ অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছতে পারে ৩ হাজার ৬০০ ডলারে।

ইউবিএস জানিয়েছে, স্থায়ী মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নিম্নমুখী ধারা, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানো ও ডলারের নিম্নমুখী বিনিময় হার স্বর্ণের বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী করে তুলবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ইটিএফে স্বর্ণের চাহিদা প্রায় ৬০০ টনে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাস ৪৫০ টনের তুলনায় অনেক বেশি।

গত শুক্রবার ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল ইঙ্গিত দেন, সেপ্টেম্বরে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে মার্কিন আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সেপ্টেম্বরে ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদহার কমার সম্ভাবনা প্রায় ৮৭ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, বছর শেষে মোট সুদহার হ্রাসের মাত্রা দাঁড়াতে পারে ৪৮ বেসিস পয়েন্টে।

এদিকে গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৩৮ ডলার ৯৪ সেন্টে। এ সময় প্লাটিনামের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে হয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৫৯ ডলার ৬৬ সেন্টে। গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১২৬ ডলার ৪১ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল।

আরও